Tuesday, December 4, 2018

শিল্পী হব, এমন স্বপ্ন ছিল না

শিল্পী হব, এমন স্বপ্ন ছিল না

এই বিভাগ আপনাদের। এখানে পাঠকের মুখোমুখি হচ্ছেন বিনোদনজগতের তারকারা। তাঁরা আপনাদের পাঠানো যেকোনো প্রশ্নের সরাসরি উত্তর দিচ্ছেন। আজ এই বিভাগে হাজির হয়েছেন অভিনেতা আফরান নিশো
অধিকাংশ সময় আপনার অভিনীত চরিত্রগুলো হয় বাউণ্ডুলে ধরনের, বাস্তবে জীবনেও আপনি কি তেমনই বাউন্ডুলে?
প্রথম কথা, বেশির ভাগ সময়েই আমি এ ধরনের নাটক করি না। হয়তো যে কয়টি নাটকে আমার চরিত্র বাউণ্ডুলে, ঠিক ওই নাটকগুলোই দেখা হয়েছে আপনার। কারণ এ ধরনের নাটকগুলোই বেশি ভাইরাল হয়। বাস্তব জীবনে আমি মিশ্র। কখনো বাউণ্ডুলে কিংবা সময়ের সঙ্গে সময়ের নিয়মে মিশে যাই।

কখনো রোমান্টিক, কখনো বাউণ্ডুলে, আবার কখনো গোছানো গ্রাজুয়েট এক ছেলে—বৈচিত্র্যময় এই চরিত্রগুলো তুলে ধরতে মানসিক পরিশ্রম কেমন হয়?
এ সময়ে যাঁরা নানা ধরনের বৈচিত্র্যপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেন, তাঁদের হয়তো মানসিক চাপ থাকতে পারে, কিন্তু আমার বেলায় এই মানসিক চাপ অনেক আগে ছিল। কাজ করতে করতে এখন আর চাপ মনে হয় না। এই চাপ সয়ে গেছে।

এবার কোটি টাকার প্রশ্ন—অভিনয় জীবনে এ পর্যন্ত কতটি নাটক/টেলিছবিতে অভিনয় করেছেন?
আমি তো গুনে রাখিনি। বলা খুব কঠিন। তবে কোটি টাকা দিলে হয়তো গুনে গুনে বলতে পারি। হা হা হা....। ৫০০–এর মতো হতে পারে।

অভিনয় জগতে আসতে কতটা সংগ্রাম করতে হয়েছে?
আমার কাছের মানুষেরা জানেন, আমার শুরুটা মডেলিং দিয়ে। পড়ালেখা করে ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার হব—একসময় এ ধরনের স্বপ্ন ছিল। নাট্যাভিনেতা বা একজন শিল্পী হব, এমন স্বপ্ন ছিল না। অনেককে হয়তো কাজ পাওয়ার ক্ষেত্রে অনেক সংগ্রাম করতে হয়েছে, আমার সেই অর্থে হয়নি। আমি ভাগ্যবান। তবে এরপর নিজেকে একজন অভিনেতা হিসেবে তুলে ধরার জন্য, ওই চরিত্রে নিজেকে ফুটিয়ে তোলা কিংবা নিজেকে ভাঙা–গড়ার জন্য আমাকে সংগ্রাম করতে হয়েছে, হচ্ছে। একটা জায়গায় নিজেকে নিতে হলে সংগ্রাম করতেই হবে।

অভিনয়জীবনে নিজেকে কীভাবে তুলে ধরার ইচ্ছা ছিল?
সব সময়ই একজন অভিনেতা হিসেবে নিজেকে দেখতে চেয়েছি। অভিনয়জীবনে সাদামাটা থাকতে পছন্দ করি। এখনো পাড়ার গলির মুখে দাঁড়িয়ে দুই টাকার চা খাই। সরি, এখন চায়ের দাম পাঁচ টাকা হয়ে গেছে! হা হা হা... সাধারণ মানুষের সঙ্গে মিশতে পছন্দ করি। কারণ এতে করে বিভিন্ন ধরনের চরিত্র কাছ থেকে দেখা যায়, শেখা যায়। তথাকথিত হিরো হওয়ার ইচ্ছা ছিল না কোনো দিনই।

জাস্টিন বিবার বিয়ে করেছেন


জাস্টিন বিবার বিয়ে করেছেন
এর আগে জানা গিয়েছিল, বিয়ের কাজ অর্ধেক সেরে ফেলেছেন আলোচিত মার্কিন পপ গায়ক জাস্টিন বিবার। বাকিটা কবে করবেন, সে বিষয়ে তখনো মুখে কুলুপ এঁটে রেখেছিলেন। তবে গত ১৩ সেপ্টেম্বর জাস্টিন বিবার আর হেইলি ব্যাল্ডউইন জুটিকে দেখা গেছে লস অ্যাঞ্জেলেসের ম্যারেজ রেজিস্ট্রার অফিসে। সেখানে আলোকচিত্রীদের ক্যামেরায় ধরা পড়ে যায় এই জুটি। ধারণা করা হচ্ছে, বিবাহ নিবন্ধন করতে গিয়েছিলেন তাঁরা। সেখানে আবেগঘন কণ্ঠে বিবারকে বলতে শোনা গেছে, ‘বিয়ের জন্য আমার আর তর সইছে না বেবি।’ এমনকি ম্যারেজ রেজিস্ট্রার অফিসের এক কর্মকর্তাকে কাজটি করে দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ জানিয়েছেন বিবার। সেই সময় সংবাদমাধ্যমগুলো প্রশ্ন রেখেছিল, তবে কি জাস্টিন বিবার বিয়ে করেই ফেলেছেন?
এবার জানা গেল, জাস্টিন বিবার ও হেইলি ব্যাল্ডউইন এরই মধ্যে বিয়ে করেছেন। আর নিজের বিয়ের খবর স্বীকার করেছেন জাস্টিন বিবার। ইনস্টাগ্রামে হেইলি ব্যাল্ডউইনের সঙ্গে একটি ছবি দিয়ে জাস্টিন বিবার লিখেছেন, ‘আমার স্ত্রী সত্যিই দারুণ!’ আর হেইলি ব্যাল্ডউইনও নিজের নাম পাল্টেছেন। আজ শনিবার ইনস্টাগ্রামে দেখা যাচ্ছে, নিজের নাম পাল্টে তিনি লিখেছেন হেইলি বিবার।

এদিকে জাস্টিন বিবার আর হেইলি ব্যাল্ডউইনকে অনেকেই শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। এই যেমন একজন ভক্ত লিখেছেন, ‘স্ত্রী! তুমি সত্যি বলছ?’ আরেকজন লিখেছেন, ‘ও মাই গড!, তোমরা বিবাহিত?’
এর আগে পিপল ম্যাগাজিনকে বিবার-ব্যাল্ডউইন জুটির এক নিকট আত্মীয় জানিয়েছেন, ‘কারও কথাই শুনল না ওরা।’ আর গির্জা সূত্রে জানা গেছে, তাঁরা দাপ্তরিক কাজ সম্পন্ন করেছেন। তবে ধর্মীয় ও পারিবারিক আনুষ্ঠানিকতা এখনো বাকি আছে। এই দুই তারকার ঘনিষ্ঠ সূত্র জানিয়েছে, দুজনের কারও বিয়ের জন্য তর সইছিল না। তবে ধুমধাম করে নয়, বরং বন্ধু আর পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ছোটখাটো অনুষ্ঠান করবেন এ জুটি। জমকালো অনুষ্ঠান করে লোক দেখাতে চান না তাঁরা, শান্তিতে সংসার করতে চান।

এক সাক্ষাৎকারে হেইলি ব্যাল্ডউইন বলেন, ‘আমার বোন ২৪ বছর বয়সে বিয়ে করেছেন। আমাদের বাবা-মাও কম বয়সে বিয়ে করেছেন। সুতরাং আমি আর অপেক্ষা করার কোনো প্রয়োজন দেখি না। যখন মনে হবে, করতে হবে। ব্যস, করে ফেলতে হবে। সিদ্ধান্ত ভুল হলে তো তাঁরা আমাকে বাধা দিতেন। কিন্তু তাঁরা সেটা করেননি।’
গত ৭ জুলাই বাহামাসের এক রেস্তোরাঁয় নৈশভোজের সময় হেইলি ব্যাল্ডউইনকে প্রেমের প্রস্তাব দেয় জাস্টিন বিবার। কেউ কল্পনাই করতে পারেনি, এত দ্রুত শুভ পরিণয়ের দিকে যাচ্ছেন এই জুটি।

যে ছবির টাকায় হবে পথশিশুদের স্কুল

যে ছবির টাকায় হবে পথশিশুদের স্কুল

‘পাঠশালা’ শুধুই শিশুতোষ ছবি নয়। ভালো গল্পের একটি বিনোদনমূলক ছবি নির্মাণ করতে চেয়েছেন ছবির দুই পরিচালক ফয়সাল রদ্দি ও আসিফ ইসলাম। এমনকি কেবল বিনোদন জোগাতেই এ ছবি তৈরি করেননি তাঁরা। স্বপ্নচারী এক পথশিশুর গল্প ঘিরে নির্মিত এ ছবির টাকায় পথশিশুদের জন্য করা হবে স্কুল।
গত শুক্রবার ঢাকার দুটি সিনেপ্লেক্সে মুক্তি পায় শিশুতোষ ছবি ‘পাঠশালা’। এ ছবির মধ্য দিয়ে অনেক বছর পর বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে যুক্ত হলো আরও একটি শিশুতোষ ছবি।
আজ সোমবার বিকেলে প্রথম আলো কার্যালয়ে ছবিটি নিয়ে নিজেদের স্বপ্ন, ভাবনা ও নানা সম্ভাবনার কথা বলেন তরুণ দুই পরিচালক। ফয়সাল রদ্দি বলেন, ‘কোনো শিশুতোষ চলচ্চিত্র নির্মাণের পরিকল্পনা আমাদের ছিল না। ইচ্ছে ছিল একটা ভালো গল্পের ছবি বানাব। কাকতালীয়ভাবে এ গল্পটি আমাদের ভালো লেগে যায়। ইচ্ছে আছে, পথশিশুদের নিয়ে ছবিটি দেখব।’
বড় পর্দায় নিজেদের প্রথম ছবি দেখে আবেগাপ্লুত এ দুই তরুণ। প্রদর্শনীতে নানা বয়সী মানুষ, বিশেষ করে শিশুদের প্রতিক্রিয়া ভীষণ অনুপ্রাণিত করেছে তাঁদের। আসিফ ইসলাম বলেন, ‘অথচ ছবির গল্প জানার পর অনেকে বলেছিলেন, এমন ছবি দিয়ে নির্মাতা হিসেবে যাত্রা শুরু করা হবে পাগলামি। আগে বাণিজ্যিক ছবি বানিয়ে কিছু টাকা জমাও। সেই টাকা দিয়ে পরে শিশুতোষ ছবি বানিয়ো। আমাদের মনে হলো পাগলামিটাই আগে করি।’
‘পাঠশালা’ ছবিটির স্লোগান, ‘সব মানিকের জন্য স্কুল চাই’। এ উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে চলচ্চিত্রটির প্রচারণা ও প্রদর্শনীর পরিকল্পনা করা হয়েছে। টিকিট বিক্রি থেকে পাওয়া ১০ শতাংশ অর্থ ব্যয় হবে পথশিশুদের স্কুল তৈরির কাজে। পরিচালকেরা মনে করেন, ছবিটি দেখে পথশিশুদের স্কুল করায় অবদান রাখতে পারবেন দর্শকেরা।
তাঁদের কাছে জানতে চাওয়া হয়, ‘পাঠশালা’ ছবির পরিচালক দুজন কেন? তাঁরা বলেন, গাড়ির মেরামতশালায় কাজ করলেও ছবির মানিকের মন পড়ে থাকত পাঠশালায়। একইভাবে, ফরমায়েশি কাজ করলেও আমাদের মন পড়ে থাকত সিনেমার দিকে। স্বপ্ন ছিল নিজেরা একদিন চমৎকার সব ছবি বানাব।’ অবশেষে অনেক চড়াই-উতরাই পেরিয়ে পর্দা আলো করল দুই পরিচালকের ছবিটি।
শুরুতে শুধু ঢাকার দুটি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেলেও, পরে আরও বেশ কিছু প্রেক্ষাগৃহে প্রদর্শিত হবে ‘পাঠশালা’। মুক্তির প্রথম চার দিন দর্শক তুলনামূলক কম থাকলেও স্কুলের বার্ষিক পরীক্ষা শেষে দর্শক বেড়ে যাবে বলে মনে করছেন পরিচালকেরা।
‘পাঠশালা’ সিনেমার গল্পে দেখানো হয় মানিক নামের এক মেধাবী শিশুর গল্প। জীবিকার তাগিদে স্কুল ছেড়ে তাকে চলে আসতে হয় ঢাকায়। কাজ নিতে হয় একটি গাড়ি মেরামতশালায়। এই সংগ্রামী জীবনের মধ্যে দিয়েও সে স্কুলে ভর্তি হওয়ার স্বপ্ন দেখে।
ছবির কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেছেন হাবিব আরিন্দা ও ইমা আক্তার। অন্য চরিত্রে অভিনয় করেছেন নাজমুল হুসেইন, ফারহানা মিঠু, রুমি হুদা, গাজী ফারুক, তৌফিকুল ইমন, আমিরুল ইসলাম প্রমুখ।
ইতিমধ্যে জার্মানির সানলাইট ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল, কানাডার কিডস ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল এবং ভারতের লিফট ইন্ডিয়া ও পুনেতে প্রদর্শিত হয়েছে ছবিটি।

বিশ্ব সুন্দরী প্রতিযোগিতায় ইতিহাস গড়েছেন ঐশী



বিশ্ব সুন্দরী প্রতিযোগিতায় ইতিহাস গড়েছেন ঐশী

‘মিস ওয়ার্ল্ড’ প্রতিযোগিতার ফেসবুক পেজে আজ সোমবার সকালে একটি পোস্ট দেওয়া হয়েছে। তাতে লেখা হয়েছে, বিশ্ব সুন্দরী প্রতিযোগিতার ইতিহাসে বাংলাদেশ এবার ইতিহাস গড়েছে। আর তা সম্ভব হয়েছে ‘মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ’ ঐশীর মাধ্যমেই। সেই পোস্টে জানানো হয়েছে, হেড টু হেড চ্যালেঞ্জে ২ দশমিক ২ বিলিয়ন ভিউ এবং ২০ মিলিয়ন মানুষের ভোট নেওয়া হয়েছে। ২০ জন প্রতিযোগীর প্রত্যেকে ৯০ সেকেন্ড সময়ের মধ্যে বিচারকদের জানিয়েছেন তাঁদের স্বপ্ন আর ইচ্ছার কথা। ঐশীর স্বপ্ন আর ইচ্ছার কথা শুনে বিচারকেরা মুগ্ধ হন। তাঁর মেধা আর সৌন্দর্যের ব্যাপারে তিন বিচারক একমত হন। তাঁদের মতে, সেরা ত্রিশে লড়াই করার মতো সব যোগ্যতা আছে ঐশীর।
বিচারকদের প্রশংসায় অভিভূত ঐশী। দ্বিগুণ উৎসাহ আর অনুপ্রেরণায় এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। বাংলাদেশের মতো একটি দেশে জন্মগ্রহণ করতে পেরে গর্বিত ঐশী। বললেন, ‘আমার দেশের ইতিহাস আমাকে গর্বিত করে। সেই দেশের একজন শুভেচ্ছাদূত হিসেবে বিশ্ব সুন্দরী প্রতিযোগিতার মঞ্চে আমিও লড়ছি। পরপর দুবার বাংলাদেশ বিশ্ব সুন্দরী প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করছে। আর প্রথমবারের মতো সেরা ত্রিশে জায়গা করে নিয়েছে। বিশ্ব সুন্দরী প্রতিযোগিতার আয়োজক কর্তৃপক্ষ যখন জানাল, সেরা ত্রিশে আমার জায়গা হওয়ার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ ইতিহাসে ঢুকে গেছে, এর চেয়ে গর্বের আর কী হতে পারে! আমি অভিভূত। উচ্ছ্বসিত। আনন্দিত।’

পিরোজপুরের মাটিভাঙ্গা এলাকার মধ্যবিত্ত পরিবারের মেয়ে জান্নাতুল ফেরদৌসী ঐশী। এইচএসসি পাস করেছেন মাথাভাঙ্গা ডিগ্রি কলেজ থেকে। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে এসেছিলেন ঢাকায়। ভর্তি কোচিং করার সময়ই দেখেন ‘মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ’ প্রতিযোগিতার বিজ্ঞাপন। নাম লেখান প্রতিযোগিতায়। নানা ধাপ পেরিয়ে ৩০ সেপ্টেম্বরের গ্র্যান্ড ফিনালেতে চ্যাম্পিয়ন হন তিনি। ঢাকার বসুন্ধরা আন্তর্জাতিক কনভেনশন সেন্টারের রাজদর্শন মিলনায়তনে বসেছিল ‘মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ ২০১৮’-এর গ্র্যান্ড ফিনালে। অন্তর শোবিজের আয়োজনে সেদিন সেরা ১০ সুন্দরীর মধ্য থেকে ঐশীকে সেরা হিসেবে নির্বাচিত করা হয়। এরপর তিনি বিশ্ব সুন্দরী প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পেয়ে যান। মেধা আর সৌন্দর্যের এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের সুযোগ পাওয়ায় কৃতজ্ঞ ঐশী। তখন তিনি জানান, ‘আগামী দিনগুলোয় আমি অর্টিজম নিয়ে কাজ করতে চাই।’

‘হেড টু হেড চ্যালেঞ্জ’ পর্বে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার মধ্য দিয়ে মিস ওয়ার্ল্ড প্রতিযোগিতার ৬৮তম আসরে সেরাদের তালিকায় এখন বাংলাদেশের ঐশী। বিভিন্ন দেশের প্রতিযোগীদের হারিয়ে সেরা ৩০ জনের মধ্যে এখন তাঁর অবস্থান। এর মধ্যে ‘হেড টু হেড চ্যালেঞ্জ’ বিভাগের ২০টি গ্রুপের বিজয়ীরা পৌঁছে গেছেন ফাইনাল রাউন্ডে।

এদিকে সেরাদের দৌড়ে জায়গা করে নেওয়ায় ভীষণ উচ্ছ্বসিত ঐশী। তিনি বলেন, ‘আমি অনেক খুশি। বাংলাদেশের শুভাকাঙ্ক্ষী আর বন্ধুদের প্রতি আমার ভালোবাসা, কৃতজ্ঞতা। আপনারা আমাকে সমর্থন করে ভোট দিয়েছেন। আপনাদের ভোটের কারণে আমি এত দূর আসতে পেরেছি। ভালোবেসে পাশে আছেন, ভবিষ্যতেও আপনাদের পাশে পাব। আপনাদের সবার ভালোবাসা ও সমর্থন নিয়ে অনেক দূর এগোতে চাই।’

‘হেড টু হেড চ্যালেঞ্জ’ বিভাগের পছন্দের প্রতিযোগীকে ভোট প্রদানের পদ্ধতি ছিল চার ধরনের। এগুলো হলো প্রতিটি দেশের মিস ওয়ার্ল্ড অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে লাইক সংখ্যা, মিস ওয়ার্ল্ড ওয়েবসাইটে কনটেস্ট্যান্ট অপশনে গিয়ে ভোট প্রদান, অফিশিয়াল মবস্টার অ্যাকাউন্টে প্রতিযোগীদের ছবিতে লাইক দেওয়া ও কমেন্ট করা এবং মডেল পাওয়ার লাইভে নির্দিষ্ট লিংকে ক্লিক করে পছন্দের প্রতিযোগীকে লাইক দেওয়া।

এদিকে মিস ওয়ার্ল্ড ট্যালেন্ট ফাইনালে অস্ট্রিয়া, মিসর, রুয়ান্ডা, চিলি ও জাম্বিয়ার প্রতিযোগীদের পাশাপাশি নৃত্য পরিবেশন করে বিচারকদের প্রশংসা কুড়িয়েছেন ঐশী। ৮ ডিসেম্বর চীনের সানাইয়া শহরে অনুষ্ঠিত হবে ‘মিস ওয়ার্ল্ড ২০১৮ ’-এর জমকালো গ্র্যান্ড ফিনালে। সেখানেই ঘোষণা করা হবে বিশ্বের সেরা সুন্দরীর নাম। এবার বিশ্ব সুন্দরীকে মুকুট পরিয়ে দেবেন গত আসরের ‘মিস ওয়ার্ল্ড’ ভারতের মানুষি ছিল্লার। জানা গেছে, গ্র্যান্ড ফিনালে শেষে ১০ ডিসেম্বর ঢাকায় ফিরবেন ঐশী।

কলকাতায় গাইলেন শুভ্রদেব

কলকাতায় গাইলেন শুভ্রদেব

বরেণ্য শিল্পী কিশোর কুমারের গান ভীষণ পছন্দ করেন শুভ্রদেব। তাঁর তারুণ্যের স্মৃতি জড়িয়ে আছে ওই শিল্পীর বেশ কিছু গানের সঙ্গে। সে রকম কিছু গান নিয়ে একটি অ্যালবাম করার কথা ভাবছেন অনেক দিন ধরে। সেই অ্যালবামের একটি গান তিনি গাইলেন কলকাতার আইসিসিআর মিলনায়তনে।
গত শনিবার সন্ধ্যায় কলকাতার আইসিসিআর মিলনায়তনে স্থানীয় এক সংগঠনের আমন্ত্রণে গান করতে যান বাংলাদেশের শিল্পী শুভ্রদেব। পেট ওয়েলনেস সোসাইটির আয়োজনে ওই সংগীতসন্ধ্যায় তিনি গেয়ে শোনান কিশোর কুমারের ‘আজ এই দিনটাকে’ আর নিজের ‘চণ্ডীদাস-রজকিনী’ গান দুটি। ওই অনুষ্ঠানে সংবর্ধনা জানানো হয় শুভ্রদেবকে। তাঁর হাতে সংবর্ধনা স্মারক তুলে দেন কলকাতার শিল্পী শিলাজিৎ।
ওই সংগীতসন্ধ্যায় আরও গান করেছেন পূর্ণদাস বাউল, শিলাজিৎ, বিনোদ রাঠোর, পাপিয়া অধিকারী, সুদেব দে, রাজনন্দিনী দত্ত এবং গানের দল জেনিথ বয়েজ। কলকাতা থেকে শুভ্রদেব জানান, এটা সামাজিক কর্মকাণ্ডে জড়িত শিল্পীদের দেওয়া একটি সম্মাননা। বিনোদন অঙ্গনের যে মানুষেরা বৃক্ষ ও প্রাণীদের জন্য কাজ করে, তাদের সম্মানিত করার এ উদ্যোগ নেন অভিনেত্রী ও গায়িকা মৌসুমী দাস।

দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে বাংলা গানের জনপ্রিয় শিল্পী হিসেবে সমাদৃত শুভ্রদেব। সংগীতের জন্য এ বছর ইয়ুথ অ্যাওয়ার্ড ও গত বছর মাদার তেরেসা অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন তিনি। শিল্পী জানান, আগামী বছরের মার্চ নাগাদ তাঁর নতুন অ্যালবাম মুক্তি পাবে। অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ছাড়াও সিডি আকারে অবমুক্ত হবে সেটি।

গানের মানুষ, প্রাণের মানুষ



গানের মানুষ, প্রাণের মানুষ

গানের বন্ধুকে গান দিয়েই শ্রদ্ধাঞ্জলি। গান গেয়েই স্মরণ করা হলো গানের মানুষ আইয়ুব বাচ্চুকে। এর চেয়ে যথার্থ আর কী হতে পারে!
আইয়ুব বাচ্চু জীবৎকালে যাঁদের সঙ্গে সবচেয়ে বেশি সময় কাটিয়েছিলেন, গতকাল রোববার সন্ধ্যায় তাঁদের কণ্ঠে, বাদ্যযন্ত্রের আওয়াজে সরব ছিল বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় সংগীত ও নৃত্যকলা ভবনের পরিবেশ। শুধু নীরব উপস্থিতি ছিল আইয়ুব বাচ্চুর। সশরীরে নয়, ছবিতে। অনুষ্ঠানের শুরুতে যন্ত্রে ধরে রাখা আইয়ুব বাচ্চুর স্বর শোনা গেল, ‘হাসতে দেখো গাইতে দেখো, অনেক কথায় মুখর আমায় দেখো...।’
বাংলাদেশ মিউজিক্যাল ব্যান্ডস অ্যাসোসিয়েশন (বামবা) আয়োজন করেছিল ‘ফেয়ারওয়েল ট্রিবিউট টু আইয়ুব বাচ্চু’। শোকসভা নয়, সঞ্চালক মাকসুদ শুরুতে পরিষ্কার করে বললেন, ‘আমরা চাই বাচ্চুর জীবনকে সেলিব্রেট করতে, যেমন উচ্ছল, প্রাণবন্ত ছিল ও।’
সারা জীবন অগণিত মানুষের করতালি আদায় করা মানুষটির স্মরণে আয়োজিত অনুষ্ঠানটির পুরো পরিবেশ মুহুর্মুহু করতালিতে মুখর ছিল। সংক্ষিপ্ত আলোচনায় সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর বলেন, সব সময় প্রাণোচ্ছল এই শিল্পী অনেক বড় মাপের একজন মানুষ ছিলেন। সহজেই সবাইকে আপন করে নেওয়ার মতো গুণ ছিল তাঁর।
১৯৮৭ সালের বামবার একটি কনসার্টের স্মৃতিচারণা করেন বর্তমান সভাপতি হামিন আহমেদ। কনসার্ট চলাকালে যান্ত্রিক গোলযোগে আয়োজনটি ভন্ডুল হতে চলেছিল। তখন সোলসের সদস্য আইয়ুব বাচ্চু গান গেয়ে, বাজিয়ে একাই পুরো ঘটনা আয়ত্তে নিয়ে আসেন। স্মরণ করতে এসে আধুনিক গানের শিল্পী রফিকুল আলম তাঁর গাওয়া আইয়ুব বাচ্চুর সংগীতায়োজনে করা ‘স্বাধীনতা তুমি নয় মাস পর দেখা খোলা আকাশ’ গানটির কয়েকটি লাইন শোনান। ফিডব্যাকের ফুয়াদ নাসের বলেন, তাঁর মতো বন্ধুবৎসল মানুষ খুঁজে পাওয়াটা দুষ্কর। মা-ভক্ত আইয়ুব বাচ্চুকে স্মরণ করে বাপ্পা মজুমদার বলেন, ‘তাঁর কাছ থেকে অনেক কিছুই শিখেছি, যেমন শিখেছি মাকে আরও বেশি ভালোবাসতে।’
অনুষ্ঠানে আইয়ুব বাচ্চুর ১৫টি গান গেয়ে শোনান বামবার সদস্যরা। এগুলোর মধ্যে ছিল ‘এখন অনেক রাত’, ‘রাতের তারার মতো’, ‘চাঁদ মামা’, ‘ফেরারি মন’, ‘গতকাল রাতে’, ‘কেউ সুখী নয়’, ‘ময়না’, ‘রুপালি গিটার’, ‘হাসতে দেখো’, ‘বাংলাদেশ’ ইত্যাদি। শেষে সবাই মিলে করেন, ‘চলো বদলে যাই’ গানটি।
বরাবরই আইয়ুব বাচ্চু চেয়েছিলেন, দেশের সব ব্যান্ড এক প্ল্যাটফর্মে এসে গান করবে। তাঁর সেই চাওয়া পূরণ হলো গতকাল রাতে। নির্দিষ্ট কোনো ব্যান্ড নয়, বরং শিল্পীরা মিলেমিশে একাকার হয়ে গান করেন। বিষয়টিকে উল্লেখ করে শাফিন আহমেদ বলেন, ‘সংগীতাঙ্গনে সবাইকে যে একত্র করা যায়, আইয়ুব বাচ্চু সেটি করে দেখিয়েছেন।’
গতকাল সবাই যখন তাঁর গানগুলো গাইছিলেন, তখন আইয়ুব বাচ্চু অনতিক্রমণীয় দূরত্বে। তিনি কি দেখছিলেন, ছেড়ে যাওয়া সঙ্গীরা কী গভীর শ্রদ্ধা ও নিখাদ ভালোবাসায় মনে রেখেছেন তাঁকে? এ প্রশ্নের উত্তর কারও জানা নেই। তবে বলা যায়, দেহান্তর মানেই কারও কারও ক্ষেত্রে নিশ্চিহ্ন হয়ে যাওয়া নয়। তাঁর সৃষ্টি ও কাজ কালোত্তীর্ণ হয়ে ওঠে। মৃত্যুকে জয় করার উপায় না থাকলেও মৃত্যুঞ্জয়ী হয়ে ওঠেন কেউ কেউ। রুপালি গিটার ফেলে আইয়ুব বাচ্চু সে পথেই এগিয়েছেন।

বালামের সঙ্গে ‘হঠাৎ’ সুজানা


বালামের সঙ্গে ‘হঠাৎ’ সুজানা
বহু বছর ধরেই গানের জগতে আছেন বালাম। ওয়ারফেজ ছাড়ার পর একক অ্যালবাম ‘বালাম’ নিয়ে শ্রোতাদের সামনে হাজির হন তিনি। বছর দশেক আগের সেই সেলফ টাইটেলড অ্যালবাম শ্রোতাদের কাছে বালামকে এনে দেয় আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তা। এরপর আরও কয়েকটি অ্যালবাম প্রকাশিত হলেও সেগুলো অতটা সাড়া জাগাতে পারেনি। বেশ কয়েক মাস আগে গান বাংলা চ্যানেলের আয়োজনে একটি গান প্রকাশিত হয়। এরপর আর নতুন কোনো গানে পাওয়া যায়নি তাঁকে। অনেক দিন পর শোনা গেল, নতুন গান নিয়ে আসছেন বালাম। গানটির শিরোনাম ‘হঠাৎ’। বালামের সঙ্গে ‘হঠাৎ’-এ মডেল হয়েছেন সুজানা জাফর।
‘হঠাৎ’ শিরোনামের এই গানের মাধ্যমে বেশ কিছুদিন বিরতির পর গানে পাওয়া যাবে জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী বালামকে। দুদিন ধরে কক্সবাজারের বিভিন্ন লোকেশনে গানটির ভিডিওর শুটিং হচ্ছে। গল্পনির্ভর এই গানের ভিডিও যৌথভাবে পরিচালনা করছেন পরাগ ও ভাস্কর।
সুজানা এর আগে হৃদয় খানের একাধিক গানের ভিডিওতে মডেল হন। এরপর তাঁকে ন্যান্‌সি, তাহসান ও ইমরানের গানের ভিডিওতেও দেখা যায়। সব কটি গানের ভিডিওতে সুজানার উপস্থিতি ছিল নজরকাড়া। টেলিভিশন নাটকের এই অভিনয়শিল্পী বিজ্ঞাপনচিত্র আর বিভিন্ন পণ্য প্রতিষ্ঠানের স্থিরচিত্রেও মডেল হয়েছেন। বালামের ‘হঠাৎ’ গান দিয়ে দুই বছর পর আবার গানের ভিডিওতে কাজ করছেন সুজানা। এটি তাঁর নবম মিউজিক ভিডিও।
জানা গেছে, ‘হঠাৎ’ শিরোনামের এই গানে সুজানাকে চঞ্চল প্রকৃতির স্বভাবের মেয়ের চরিত্রে অভিনয় করতে দেখা যাবে। আর এ জন্য সুজানা তাঁর চুলের স্টাইলও বদলে ফেলেছেন। অনেকের মতে, এই গানের ভিডিওতে অন্য রকম এক সুজানাকে দেখা যাবে।
বালামের ‘হঠাৎ’ গানটির কথা লিখেছেন এ দেশের আরেক জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী তাহসান। নতুন বছরের শুরুতে বালামের গানের এই ভিডিও ইউটিউবে প্রকাশিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানা গেছে।